মসজিদের বিস্ফোরণ নিয়ে নাশকতার আশংকা করছেন শামীম ওসমান

0
242
মসজিদের-বিস্ফোরণ-শামিম-ওসমান

ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গভীর তদন্ত চেয়েছেন স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান। তিনি বলেছেন, ‘এটা দুর্ঘটনা বা নাশকতা আমি কোনটিই বলবো না। কিন্তু আমি নাশকতার বিষয়টিকেও ফেলে দিচ্ছি না। আমার আশংকা করছি এটা।’

গত শুক্রবার রাতে বিস্ফোরণের পরদিন গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টায় শামীম ওসমান মসজিদ পরিদর্শন আসেন। তিনি মসজিদের ভেতরে ঘুরে দেখেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটিকে তুচ্ছভাবে দেখার সুযোগ নাই। এটা ছোট কোন জিনিস না। শুধু গ্যাসের কারণেই এত বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে এটাকেই প্রাধান্য দিয়েই শেষ করা যাবে না। কারণ এর আগেও আমাদের উপরেও ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে কারণেই আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহবান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি কোন এক্সপার্ট না। আমি সে কারণেই এক্সপার্টদের দিয়ে গভীরভাবে তদন্তের কথা বলছি। রাসায়নিক পরীক্ষা করতে পারে এ ধরনের লোকজনদের সম্পৃক্ত করা উচিত। এটা এসির বিস্ফোরণ কি না সেটাও তদন্ত করা উচিত। তবে সচরাচর এসির গ্যাস সিলিন্ডার থাকে বাইরে। সেটা ভেতরে বিস্ফোরণ হওয়ার কথা না। তাছাড়া গ্যাসের কথা বলা হচ্ছে। যদি এতই গ্যাসের রিজার্ভ থাকতো তাহলে সেটা তো মাগরিবের সময়ে কিংবা এশার আগে দরজা খোলার কারণে বের হয়ে যেত। আমি সরজেমিন এসব দেখে আমার মনের মধ্যে বার বার বিষয়টি উঠে আসছে যে গভীর তদন্ত প্রয়োজন। এক্সপার্টদের তদন্ত দরকার।’ শামীম ওসমান বলেন, ‘যেহেতু অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমার উপর ১৬ জুনের বোমা হামলা হয়েছিল। হযরত শাহজালাল রহ. এর মাজারে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল। আমি বলছি না এর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। তবে আমি এর গভীর তদন্ত হতে হবে। কারণ এসির সিলিন্ডার থাকে বাইরে। বিস্ফোরণ ঘটলে বাইরে থাকবে। আর গ্যাসের লাইন বাইরে। আর ভেতরে থাকলেও কতটুকু গ্যাস জমে থাকলে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটবে সেটা তদন্ত করে দেখা উচিত। আর আল্লাহর ঘরে তো কেউ সিগারেটে আগুন ধরায়নি। তাছাড়া অনেক প্রশ্নও সামনে চলে আসে। কারণ বিস্ফোরণ ঘটলে এক কোনায় ঘটতে পারতো। কিন্তু পুরোটায় ছড়ালো কিভাবে।’ তিনি বলেন, ‘দয়া করে এ ঘটনায় কোন পারসেপশন তৈরি করবেন না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরী।’

গত শুক্রবার রাতে এশার নামাজের সময় ওই মসজিদে একসঙ্গে ছয়টি এসি বিস্ফোরিত হয়ে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি অগ্নিদগ্ধ হন। বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদের মুয়াজ্জিন, স্কুল ছাত্র সহ মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮ জনে। গতকাল শনিবার দুপুরে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃতরা হলো জয়নাল আবেদিন (৪০), মাইনুদ্দিন (১২), নয়ন (২৭), কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮), রিফাত (১৮), মোস্তফা কামাল (৩৪), জুনায়েদ (১৮), সাব্বির (২১), কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), হুমায়ুন কবির (৭০), ইব্রাহিম (৪৩), জুনায়েদ (১৭), জামাল (৪০), জুবায়ের (৭) ও রাসেল (৩৪)। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি অপর ২১ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।