মাস্ক পরায় অনীহা এমপি বাবুর!

0
281
Narayanganjnews.live

স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাবু। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সরকারি অনুষ্ঠান ও সভা-সমাবেশে মাস্ক ব্যবহারে এই সাংসদের অনীহা দেখা গেছে। দেশে বিদ্যমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সংক্রমন রোধে যখন মাস্ক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সরকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সেখানে একজন সাংসদ যিনি আইন প্রণেতা তিনি নিজেই মানছেন না সেসব নির্দেশনা। এতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সংক্রমন রোধে জনসমাগমপূর্ণ স্থান এবং সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। জনসাধারণ সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাস্কের ব্যবহার বাড়াতে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও জোর দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সর্বশেষ মন্ত্রীসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে এ ধরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে মাস্ক পরার বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ইতিমধ্যে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে মাস্ক না পরার অপরাধে জরিমানা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ তো বটেই আইনজীবীরাও জরিমানা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। সম্প্রতি জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির দুই সদস্যকেও জরিমানা করা হয়েছে মাস্ক পরিধান না করার অপরাধে। সর্বশেষ মঙ্গলবারও জেলা আদালত পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। বন্দর উপজেলাও মাস্ক পরার বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে সরকার ও প্রশাসনের এই কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও একজন আইন প্রণেতা হয়ে সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি সরকারি ও দলীয় অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু। কিন্তু সেসব কর্মসূচিতে সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে ছিলেন উদাসীন। সর্বশেষ ৮টি সরকারি ও দলীয় অনুষ্ঠানে বিনা মাস্কে দেখা গেছে এই সাংসদকে।

গত ২ আগস্ট আড়াইহাজার উপজেলা ক্বওমী ছাত্রদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু। ওই অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিনা মাস্কে ছিলেন এই সাংসদ। ওই অনুষ্ঠানের অধিকাংশ ব্যক্তিই মাস্ক ব্যবহার করেননি। পুরো আয়োজনেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত।

গত ৮ আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানেও তিনি ছিলেন মাস্কবিহীন। ১৫ আগস্টে জাতীয় শোক দিবসে ব্রাহ্মন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শোক সভায়ও ছিল একই চিত্র। ওই অনুষ্ঠানে সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু এবং তার নেতাকর্মীরাও ছিলেন মাস্কবিহীন। একই দিন খাগকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শোক সভায়ও উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম বাবু। সেখানেও ছিল একই অবস্থা, মাস্কবিহীন সাংসদ।

আড়াইহাজার উপজেলা শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদ শোক সভার আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে মাস্কবিহীন অবস্থায় পুরোটা সময় কাটিয়েছেন প্রধান অতিথি সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও ফতেহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আলোচনা সভাতে উপস্থিত ছিলেন এমপি বাবু। সেখানেও মাস্কবিহীন অবস্থায় ছিলেন তিনি।

জেলা-উপজেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে। মাস্ক না পরার অপরাধে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে জরিমানা গুণতে হচ্ছে। এমনকি আইনজীবীরাও বাদ যাচ্ছেন না। যখন সরকারি প্রজ্ঞাপনেও মাস্ক পড়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তখন একজন সংসদ সদস্য, আইন প্রণেতার স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। যেখানে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি করে জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার কথা সেখানে তার এই মাস্ক পরার অনীহা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি না মানতে উৎসাহ দিচ্ছে বলে মন্তব্য তাদের।